প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে মোটরযান চালকেরা সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন করলে অর্থদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির পাশাপাশি তাদের চালনা অনুমতিপত্র থেকে নির্ধারিত দোষসূচক নম্বরও কেটে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জরুরি এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রতিটি চালনা অনুমতিপত্রের বিপরীতে শুরুতে মোট ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। কোনো চালক সড়ক বা মহাসড়কে চলাচলের সময় আইন অমান্য করলে কিংবা নির্ধারিত বিধি লঙ্ঘন করলে প্রচলিত শাস্তির পাশাপাশি এই পয়েন্ট ধাপে ধাপে কর্তন করা হবে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো চালকদের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি করা এবং সড়কে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বেপরোয়া যানচালনা, অতিরিক্ত গতি, সংকেত অমান্য এবং অন্যান্য নিয়মভঙ্গের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছিল। নতুন ব্যবস্থার ফলে চালকেরা আরও দায়িত্বশীল হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এখন এই পয়েন্ট কর্তনের পুরো প্রক্রিয়া একটি বিশেষ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো চালক ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট তথ্য সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষিত হবে এবং নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী তার চালনা অনুমতিপত্র থেকে দোষসূচক পয়েন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে। ফলে আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অর্থদণ্ড আরোপ করলেই অনেক ক্ষেত্রে আইন অমান্য করার প্রবণতা কমে না। কিন্তু চালনা অনুমতিপত্রের সঙ্গে দোষসূচক নম্বর যুক্ত থাকলে চালকদের মধ্যে অতিরিক্ত সতর্কতা তৈরি হবে। কারণ নির্ধারিত সীমার বেশি পয়েন্ট কাটা গেলে ভবিষ্যতে চালনা অনুমতিপত্রের বৈধতা বা নবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ সব ধরনের যানবাহনের চালকদের প্রতি সড়ক পরিবহন আইন, ট্রাফিক সংকেত এবং নিরাপদ চালনার সব বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বশীলভাবে যানবাহন পরিচালনার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সড়কে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে, বেপরোয়া যানচালনা কমবে এবং দুর্ঘটনা হ্রাসের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।



