রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১৬ লাখ চালকের হাতে নেই স্মার্ট লাইসেন্স

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ১২:০০ পিএম

১৬ লাখ চালকের হাতে নেই স্মার্ট লাইসেন্স

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের ড্রাইভিং লাইসেন্স সেবা দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্যে রয়েছে। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পাচ্ছেন না লাখো আবেদনকারী। এতে পেশাদার ও অপেশাদার—উভয় ধরনের চালকদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ। দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৬ লাখেরও বেশি আবেদনকারী স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্সের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতিদিন নতুন আবেদন যুক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা আরও বাড়ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আবেদন নিষ্পত্তি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স চালুর পর বিভিন্ন সময়ে কার্ড প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়োগে বিলম্ব এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য হস্তান্তরে সমন্বয়ের অভাব থেকেই মূল সংকটের শুরু। সময়মতো নতুন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন না হওয়ায় স্মার্ট কার্ড উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

এই সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পেশাদার চালকেরা। অনেকেই বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েও স্মার্ট লাইসেন্সের অভাবে সেই সুযোগ হারিয়েছেন। আবার কেউ কেউ কয়েক বছর আগে আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কেবল সাময়িক অনুমতিপত্র নিয়ে চলাচল করছেন। একাধিকবার নবায়ন ফি, কার্ড প্রস্তুত ব্যয় এবং ডাকযোগে সরবরাহ বাবদ অর্থ পরিশোধ করলেও কাঙ্ক্ষিত স্মার্ট কার্ড হাতে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন অনেক আবেদনকারী।

বিআরটিএ জানিয়েছে, সংকট নিরসনে নতুন করে দরপত্র কার্যক্রম চলছে এবং তা সম্পন্ন হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ডিজিটাল সেবাকে আরও কার্যকর করতে একটি সমন্বিত সরকারি পরিচয়ভিত্তিক কার্ড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডার সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলেও দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ লাখো আবেদনকারীর হাতে কবে স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। ফলে দ্রুত সংকট নিরসন এবং সেবার গতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!