রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজস্ব বাড়াতে ১১ ট্রেন ইজারার পথে রেলওয়ে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ১১:০৬ এএম

রাজস্ব বাড়াতে ১১ ট্রেন ইজারার পথে রেলওয়ে

ফাইল ছবি

রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে আনতে পশ্চিমাঞ্চল রেলের আরও ১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে রেলওয়ের কেন্দ্রীয় দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ট্রেনগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ মেইল ও লোকাল ট্রেন থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় সম্ভব হচ্ছে না। পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, কম ভাড়া এবং বিপুল সংখ্যক যাত্রীর টিকিট ছাড়া ভ্রমণের কারণে এসব ট্রেনে ধারাবাহিকভাবে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এর ফলে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলপথে আন্তর্জাতিক, আন্তনগর, মেইল, যাত্রীবাহী এবং লোকাল মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে আগেই কয়েকটি মেইল, যাত্রীবাহী ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার আরও ১১টি ট্রেন একই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক অর্থবছরেই নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় অনেক কম হয়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন অব্যাহত থাকলেও প্রত্যাশিত পরিমাণ অর্থ আদায় সম্ভব হয়নি। ফলে আর্থিক ঘাটতি পূরণ এবং পরিচালন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বিকল্প উপায় হিসেবে ইজারা পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট আন্তনগর ট্রেন নিয়মিত লাভজনক হলেও অধিকাংশ মেইল ও লোকাল ট্রেনে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় রুটে অনেক যাত্রী নিয়মিত টিকিট সংগ্রহ না করে ভ্রমণ করেন, যার প্রভাব সরাসরি রাজস্ব আয়ের ওপর পড়ে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সব ট্রেনে কার্যকরভাবে টিকিট পরীক্ষা করাও সম্ভব হচ্ছে না।

রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করছেন, বেসরকারি পরিচালনায় গেলে ট্রেন পরিচালনায় জবাবদিহি বাড়বে, টিকিট বিক্রি ও রাজস্ব আদায়ে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং পরিচালন ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান উন্নত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে কিছু উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনা শুরু হলে ভাড়া বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমোদন পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম শুরু হবে এবং যাত্রীস্বার্থ বিবেচনায় রেখেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!