রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশে জুয়া দমনে আইন পাশ, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

দেশে জুয়া দমনে আইন পাশ, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

দেশে জুয়া, অনলাইনভিত্তিক জুয়া, বাজি এবং খেলার ফলাফল প্রভাবিত করার মতো অপরাধ দমনে কঠোর আইনি কাঠামো তৈরি করেছে জাতীয় সংসদ। নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি পাস হয়।

নতুন এই আইনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পুরোনো জুয়াবিষয়ক আইন বাতিল করে সময়োপযোগী বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটিতে প্রচলিত জুয়ার পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক জুয়া, দূরবর্তী জুয়ার কার্যক্রম, বাজি, খেলার ফলাফল পূর্বনির্ধারণ এবং প্রতিযোগিতার নির্দিষ্ট ঘটনা প্রভাবিত করার মতো কর্মকাণ্ডকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারবেন। অনলাইন জুয়ার ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অনলাইন বাজি কিংবা খেলার ফলাফলকে প্রভাবিত করার মতো অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে মোট ২৪টি বিষয়ে স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান সংযোজন করা হয়েছে। আইনটি কার্যকর করতে তল্লাশি, আলামত জব্দ, অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী মাধ্যম বন্ধ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।

তবে আইনটি নিয়ে সংসদে আলোচনা চলাকালে কয়েকজন সদস্য কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, পর্যাপ্ত নজরদারি ও বিচারিক ভারসাম্য নিশ্চিত না হলে কিছু ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকতে পারে। বিশেষ করে নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সময়ে অধিকাংশ জুয়ার কার্যক্রম তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ না থাকলে অপরাধের আলামত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন আইনের বিভিন্ন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!