প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন বিদেশি নাগরিক ও এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানের সময় বিপুলসংখ্যক যোগাযোগযন্ত্র, গ্রাহক পরিচয়পত্রভিত্তিক সংযোগ, যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন যন্ত্র এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এই চক্রটি প্রতি মাসে অবৈধ উপায়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার করছিল।
রোববার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালানো হয়। ওই ভবনের বিভিন্ন তলায় বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান এবং অনলাইনভিত্তিক অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নারী ভবনটি ভাড়া নিয়ে বিদেশি নাগরিকদের ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। অভিযানের সময় বিভিন্ন কক্ষ থেকে চৌদ্দটি বহনযোগ্য কম্পিউটার, ষোলোটি মুঠোফোন, প্রায় ছয় হাজার গ্রাহক পরিচয়পত্রভিত্তিক সংযোগ, একাধিক যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, বিপুলসংখ্যক সংযোগ স্থাপনের স্লট, বিদেশি মদ এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রতারণা চক্রটি বিভিন্ন লোভনীয় বার্তা পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করত। চাকরি, অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ কিংবা বিশেষ সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে নির্দিষ্ট সংযোগে প্রবেশ করানো হতো। এরপর বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তা বিদেশে পাঠানো হতো। প্রযুক্তিগত কৌশলে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলোর পরিচিতি নম্বর পরিবর্তন করায় তাদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি মাত্র যোগাযোগকেন্দ্র ব্যবহার করেই প্রতি মাসে আনুমানিক দুইশ থেকে আড়াইশ কোটি টাকা অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাঠানো হতো। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা পুলিশ সাধারণ মানুষকে অনলাইনভিত্তিক প্রলোভন, সহজে আয় কিংবা আকর্ষণীয় প্রস্তাবের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।



