প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা কমিয়ে নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করতে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ এবং রাজধানীকে ঘিরে থাকা নদীপথের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক ও নৌপথকে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা গেলে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা, বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ এবং নদীপথ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বাস্তবায়নের গতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
সভায় জানানো হয়, বৃত্তাকার সড়ক প্রকল্পটি গাবতলী থেকে বাবুবাজার এবং পোস্তগোলা থেকে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। প্রায় বারো কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশে বর্তমানে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের প্রায় পঁয়তাল্লিশ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই সড়ক নির্মাণ শেষ হলে রাজধানীর ভেতর দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন সহজেই বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারবে। এতে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং দৈনন্দিন যানজট অনেকাংশে কমবে।
বৈঠকে শুধু সড়ক নয়, রাজধানীকে ঘিরে থাকা প্রায় একশ দশ কিলোমিটার নদীপথ ব্যবহারের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই নদীপথ পুরোপুরি চালু করা গেলে রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত ও সহজে নৌপথে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। এতে সড়কপথের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে বলেন, নদীপথভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎচালিত নৌযান ব্যবহার করা হবে। ফলে জ্বালানি ব্যয় কমবে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং যাত্রীদের সময়ও সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি আধুনিক ও টেকসই কাঠামো গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সভায় স্থানীয় সরকার, সড়ক পরিবহন, নৌপরিবহন, রেলপথসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি নগর পরিকল্পনা ও পরিবহন বিশেষজ্ঞরাও প্রকল্পের কারিগরি দিক এবং সম্ভাব্য সুফল নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, পরিকল্পনাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে আধুনিক সড়ক ও নদীপথভিত্তিক সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার মাধ্যমে নগরবাসী দ্রুত, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। এতে ঢাকার সার্বিক নগর ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।



