রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডিসেম্বরে চালু হতে পারে কমলাপুর অংশের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম

ডিসেম্বরে চালু হতে পারে কমলাপুর অংশের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

ফাইল ছবি

রাজধানীর যানজট কমাতে নির্মাণাধীন ঢাকা উড়ালসড়ক প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। দীর্ঘদিন ধরে হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জ এলাকার বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মাণকাজে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিলেও সেই বাধা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই কারওয়ান বাজার থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

এদিকে কমলাপুর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত অংশের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রকল্পের সময়সীমা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অংশের কাজ শেষ হলে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং নগরবাসীর যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে উঠবে।

সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন এই উড়ালসড়ক প্রকল্পটি রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিমানবন্দর এলাকা থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ছেচল্লিশ দশমিক তিয়াত্তর কিলোমিটার। এর মধ্যে মূল উড়ালসড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় উনিশ দশমিক তিয়াত্তর কিলোমিটার এবং ওঠানামার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে একত্রিশটি সংযোগপথ।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সার্বিক নির্মাণ অগ্রগতি আশি শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম অংশের কাজ প্রায় শতভাগ শেষ হয়েছে। কারওয়ান বাজার ও হাতিরঝিল অংশের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে কমলাপুর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত অংশের নির্মাণকাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে কারওয়ান বাজার থেকে কমলাপুর অংশ চালু করা গেলে মতিঝিল, কমলাপুর এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি উড়ালসড়ক ব্যবহার করে বিমানবন্দর, গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পৌঁছাতে পারবেন। এতে রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কে যানবাহনের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জ এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য এবং সৌন্দর্য রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই এলাকায় পরিবেশবান্ধব নকশা, আধুনিক আলোকসজ্জা এবং সবুজায়নের সমন্বয়ে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জলাধার ও পার্কের স্বাভাবিক সৌন্দর্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালকদের ভাষ্য, বর্তমানে নির্মাণকাজে বড় ধরনের কোনো নীতিগত বা কারিগরি বাধা নেই। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চললে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো প্রকল্প নগরবাসীর যাতায়াতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পাশাপাশি সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে রাজধানীর সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!