প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
দেশের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিতে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নতুন ধারণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই উদ্ভাবকদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলানী এলাকায় উদ্ভাবক সলেমান আলীর তৈরি সৌরশক্তিচালিত সেচযন্ত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ হলো মানুষের আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের বিকাশ। তিনি মনে করেন, এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে একজন উদ্যোক্তা শুধু নিজের জীবনমান উন্নত করবেন না, বরং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক কিংবা আবেগের পরিবর্তে উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে নতুন উদ্যোক্তাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উদ্ভাবক সলেমান আলীর কাজের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েও তিনি এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থা তৈরি করেছেন, যা কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। নিজের শ্রম, মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা দেশের অন্য তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।
তিনি জানান, এ ধরনের উদ্ভাবকদের আর্থিক সংকট দূর করতে সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে কম সুদে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে নতুন উদ্যোক্তারা তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ পাবেন এবং দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন অনেক প্রতিভাবান মানুষ রয়েছেন, যারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নিজেদের উদ্ভাবনকে বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারেন না। তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক সহায়তার পরিধি বাড়ানো গেলে কৃষি, শিল্প এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, উদ্ভাবক সলেমান আলী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই দেশীয় উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভাবকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহজ অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে দেশীয় উদ্ভাবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির টেকসই বিকাশেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



