প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত সহিংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বর্তমানে তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া আইনি ও কারিগরি দিক থেকে চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষ হলে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান প্রসিকিউটরের দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন সাক্ষ্য, নথি, আলোকচিত্র, চলমান চিত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত শেষ করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর অভিযোগপত্র প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু হবে।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সাংবাদিকসহ মোট প্রায় ২৮ থেকে ৩০ জনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি রয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রধান প্রসিকিউটর জানান, বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে দ্রুত আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে সম্ভাব্য আসামিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে সংগৃহীত সব তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ আইনগতভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে অভিযোগপত্র যথাযথভাবে উপস্থাপন করা যায়। তদন্তের প্রতিটি ধাপ আইনের বিধান অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, এটি এখনো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত বলে গণ্য করা যায় না। পরবর্তী কার্যক্রমে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।



