প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন মনোরেল পথ নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নগরবাসী নতুন এই গণপরিবহন সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে রাজধানীর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পথে মনোরেল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এসব পথের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার। যাত্রীদের দ্রুত, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্য সব দিক যাচাই করতে একটি প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সমীক্ষায় সম্ভাব্য পথ নির্বাচন, যাত্রী চাহিদা, নির্মাণ ব্যয়, কারিগরি সক্ষমতা এবং বিদ্যমান মেট্রোরেল ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
সমীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিদেশি অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরও এই কাজে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়।
প্রাথমিক সমীক্ষা শেষে প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা, ব্যয় নির্ধারণ, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং অর্থায়নের উৎস চূড়ান্ত করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দরপত্র আহ্বান এবং নির্মাণকাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিকল্পনাবিদদের মতে, মনোরেল কখনোই মেট্রোরেলের বিকল্প নয়। বরং এটি এমন একটি সহায়ক গণপরিবহন ব্যবস্থা, যা রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলকে মেট্রোরেলের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করবে। ফলে যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং একাধিক পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ গড়ে উঠবে।
বিশেষ করে পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও সংকীর্ণ সড়কবিশিষ্ট এলাকায় আধুনিক গণপরিবহন পৌঁছে দিতে মনোরেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে ওই এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, সব ধরনের পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সম্পন্ন হলে ২০২৯ সালের মধ্যেই রাজধানীবাসী নতুন এই গণপরিবহন ব্যবস্থার সুবিধা পেতে শুরু করবেন। এর ফলে যানজট কমার পাশাপাশি নগরজীবনে গতিশীলতা বাড়বে এবং আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।



