প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১১:১৯ এএম
পুলিশের সরকারি পোশাক পরে একটি রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের উপনির্বাচনের সময় তাঁর এক নিকটাত্মীয়ের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি পুলিশের পোশাক পরেই উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরদিন বিভিন্ন মাধ্যমে সেই ঘটনার ছবি ও তথ্য প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়। অভিযোগ ছিল, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে তিনি সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, নির্বাচনী পরিবেশে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন এবং পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও ব্যক্তিগত শুনানিতে তিনি উপস্থিত হননি। পরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁকে আবারও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দাখিল করেননি।
পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরের দণ্ড দেওয়া হয়।
এর আগে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনে তিনি পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা এবং অতীতের বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। তবে সর্বশেষ বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।



