রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সংক্রান্ত গুঞ্জন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা আলোচনার প্রেক্ষাপটে নিজের বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নির্ধারিত সময়ের আগেই আগামীকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি রাজধানী ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন। আইনসভার প্রশাসনিক দপ্তরের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের এই বিদেশ সফর শেষে আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা ছিল। চিকিৎসার উদ্দেশে গত ১৯ জুলাই তিনি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গমন করেন এবং সে অনুযায়ী বিমানের ফেরার টিকিট নির্ধারিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাকে দেশে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি পূর্বের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সফর সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হন।

আইনসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে গত দুদিন ধরে বিভিন্ন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। এ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই স্পিকারকে দ্রুত দেশে ফেরার নির্দেশ বা অনুরোধ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তাঁর আগমনের পর এই গুঞ্জন ও আলোচনার বিষয়ে সব অস্পষ্টতা দূর হবে এবং সামগ্রিক বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশের মূল সংবিধানের সুনির্দিষ্ট বিধি এবং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যদি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান, তবে তাঁকে স্পিকারের উদ্দেশ্যে নিজের স্বাক্ষরসহ পদত্যাগপত্র পেশ করতে হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি পদটি ফাঁকা হলে অথবা তিনি কোনো কারণে নিজের অর্পিত দায়িত্ব পালনে সক্ষম না থাকলে, নতুন রাষ্ট্রপতি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির আসন অলঙ্কৃত করেন। সেই হিসেবে বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদই পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানের সাময়িক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

তবে দেশের সর্বোচ্চ আইনের অন্য এক বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির পদ খালি হওয়ার পর অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের আনুষ্ঠানিক ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে স্পিকারের এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনকে অত্যন্ত অর্থবহ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!