রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাকবিতণ্ডায় উত্তপ্ত সংসদ, সতর্ক করলেন স্পিকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

বাকবিতণ্ডায় উত্তপ্ত সংসদ, সতর্ক করলেন স্পিকার

ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদীয় পরিবেশ। সংসদ সদস্যদের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হট্টগোল এবং একে অপরকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার প্রবণতায় বর্তমান সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হলে স্পিকার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং সংসদ পরিচালনার নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেন।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, একে অপরকে কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার যে প্রবণতা তিনি দেখেছেন, তা সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে সংসদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল এই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে সংসদের কার্যপ্রণালির বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। স্পিকার যখন বক্তব্য দেন, তখন সংসদ সদস্যদের তা মনোযোগ দিয়ে শোনার নিয়ম রয়েছে বলেও তিনি মনে করিয়ে দেন।

স্পিকার আরও বলেন, সংসদীয় বিধি-বিধান না মানলে এবং নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা অব্যাহত থাকলে এই সংসদ দীর্ঘদিন কার্যকরভাবে চলতে পারবে না। এ সময় তিনি সংসদ সদস্যদের নিয়ম-কানুন ভালোভাবে পড়ার এবং সংসদীয় আচরণবিধি অনুসরণের আহ্বান জানান।

এর আগে কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি প্রশ্নটি বুঝতে পারেননি। তার বক্তব্যে প্রশ্নটি সংসদীয় প্রশ্ন নাকি জনসভায় দেওয়া বক্তব্য—তা বুঝতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পর সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় হট্টগোল ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি কথা বলার সুযোগই না দেওয়া হয়, তাহলে বাকস্বাধীনতার বিষয়টি কোথায় থাকে। তার এই বক্তব্য নিয়েও বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান এবং বক্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজের সংসদীয় জীবনের প্রায় ৪০ বছরের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি কার্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ সংসদ গড়ে তুলতে সব সদস্যের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!