রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শনিবার থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

শনিবার থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

ফাইল ছবি

দেশের সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে আগামীকাল শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা বা জিপিএস যন্ত্র সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন করে কোনো গণপরিবহনের নিবন্ধন এবং বিদ্যমান যানবাহনের ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযুক্ত থাকার প্রমাণ দেখাতে হবে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নিবন্ধন বা ফিটনেস সনদ নবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট যানবাহনে জিপিএস যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে যন্ত্রটি কার্যকর রয়েছে কি না, সেটিও নির্ধারিত মুঠোফোনভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দেখাতে হবে। জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে প্রয়োজনীয় সনদ দেওয়া বা নবায়ন করা হবে না।

সড়কে গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিনের সমস্যা। যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া গতিতে চলাচল, নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের একাধিক অংশ দখল করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জিপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহনের অবস্থান ও চলাচলের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে। কোনো যানবাহন নির্ধারিত পথের বাইরে যাচ্ছে কি না কিংবা অস্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে কি না, তা নজরদারির আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকেই দেশের সব গণপরিবহনে পুরোপুরি জিপিএস ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব নাও হতে পারে। বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি ও প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে চলছে। পুরো ব্যবস্থাটি কার্যকর করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রযুক্তি সংযোজন করলেই সড়কে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ফিরবে না। জিপিএস থেকে পাওয়া তথ্য কার্যকরভাবে ব্যবহার, নিয়মিত তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার জরুরি।

তাদের মতে, প্রযুক্তির সঙ্গে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা যুক্ত করা গেলে গণপরিবহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যানজট কমানো এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নিয়ম বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শিথিলতা থাকলে এর সুফল সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!