প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং নতুন রাষ্ট্রচিন্তার এক স্থায়ী প্রতীক। তিনি মনে করেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত করবে এবং জাতীয় চেতনা জাগ্রত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বুধবার সকালে রাজধানীতে আয়োজিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই জাদুঘর দেশের ইতিহাসের একটি কেন্দ্রীয় স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ভবিষ্যতে কোনো সময় জাতি দিকভ্রান্ত হলে বা নতুন করে পথচলার প্রয়োজন হলে সেই অনুপ্রেরণা এখান থেকেই পাওয়া যাবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল মানুষের সাহস, ত্যাগ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। সেই ইতিহাসকে জীবন্ত রাখার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়, নতুন প্রজন্মেরও। তাই তরুণদের এই ইতিহাস জানার, বোঝার এবং ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসকে কেবল স্মরণ করলেই হবে না, এর শিক্ষা ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি উপস্থিত অতিথিদের জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সেখানে সংরক্ষিত আলোকচিত্র, দলিল, স্মারক এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণ গণঅভ্যুত্থানের বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান শিক্ষার উৎস হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, শহীদ পরিবারের সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



