প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
দেশে গত জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সড়কে সংঘটিত ৪৫৮টি দুর্ঘটনায় মোট ৪১৬ জন নিহত এবং ৬২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, মোট নিহতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী।
সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জুলাই মাসে মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট ১৫৯টি দুর্ঘটনায় ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পথচারী, বিভিন্ন গণপরিবহনের যাত্রী এবং যানবাহনের চালক ও সহকারীরাও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, সড়কে চলাচলকারী প্রায় সব শ্রেণির মানুষই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় অংশ ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। এছাড়া আঞ্চলিক সড়ক, শহরের সড়ক এবং গ্রামীণ সড়কেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন উল্টে যাওয়া, পথচারীকে চাপা দেওয়া এবং পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা বেশি দেখা গেছে।
সময়ের দিক থেকে সকালে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর রাত, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা এবং ভোরের সময়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ প্রাণহানির তথ্য উঠে এসেছে, আর সবচেয়ে কম প্রাণহানি হয়েছে বরিশাল বিভাগে।
প্রতিবেদন প্রস্তুতকারীরা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের দুর্বল অবস্থা, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা, ট্রাফিক আইন অমান্য, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া ব্যবহার এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সংস্থাটি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, মহাসড়কে পৃথক সেবাসড়ক নির্মাণ, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ, রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আধুনিক অবকাঠামো এবং কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে সড়কে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।



