রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌনে ৪ কোটি টাকার সোনা, গাড়ি ফেলে পালালেন চালক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌনে ৪ কোটি টাকার সোনা, গাড়ি ফেলে পালালেন চালক

সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরের গোলচত্বর এলাকা থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকা মূল্যের সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। তল্লাশির সময় সন্দেহভাজন গাড়িটির চালক পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিমানবন্দরের বাইরের গোলচত্বর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহজনক একটি গাড়িকে থামিয়ে তল্লাশির উদ্যোগ নেওয়া হলে চালক শামীম মিয়া গাড়িটি ফেলে দ্রুত সরে যান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সহযোগিতায় গাড়িটিতে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশির একপর্যায়ে গাড়ির ভেতর থেকে ১৪টি সোনার বার এবং ১২টি সোনার পাত উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা সোনার মোট ওজন ১ হাজার ৮১২ গ্রাম, যা প্রায় ১৫৫ দশমিক ৩৫ ভরির সমান। পরীক্ষা করে এসব সোনা ২৪ ক্যারেট মানের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উদ্ধার করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ৮৯২ টাকা। এত বিপুল পরিমাণ সোনা কীভাবে গাড়িটিতে এলো এবং এর গন্তব্য কোথায় ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

শুধু সোনা নয়, গাড়িটিতে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি মুঠোফোন, নগদ ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮৫ টাকা, একটি ব্যবহৃত বহনযোগ্য কম্পিউটার, বিভিন্ন ব্যাংকের আটটি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, দুটি চালকের অনুমতিপত্র এবং একটি জাতীয় পরিচয়পত্র। এসব সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার করা সোনার সঙ্গে চোরাচালান চক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে সোনাগুলো বৈধভাবে আনা হয়েছিল কি না, সেগুলোর মালিক কে এবং গাড়ির চালকসহ আর কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা গাড়ি ও উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। গাড়ির চালক পালিয়ে যাওয়ায় তার অবস্থান শনাক্ত এবং তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া সোনার উৎস ও সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়ও সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর মধ্যেই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের এই ঘটনা সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!