রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঢাবিতে ‘সমকামিতার’ অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীর সিট বাতিল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

ঢাবিতে ‘সমকামিতার’ অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীর সিট বাতিল

সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের পর তাদের আবাসিক সিট বাতিল করেছে হল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে তাদের সিট স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের আবাসিক সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে আরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরই দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিমালায় এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শাস্তির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আল সাবাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে দাবি করেন, দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, স্থানীয় অভিভাবকের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং আবাসিক সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রমাণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরবর্তী কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এর আগে গত ৩০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি আবাসিক হলকে ঘিরেও একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে আটক এবং পরে আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের তথ্য সামনে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আবাসিক পরিবেশ, ব্যক্তিগত অধিকার, শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগের তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!