প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে আরও চারজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরের আচরণসংক্রান্ত অভিযোগ, নৈতিকতা-সংক্রান্ত বিষয় এবং অন্যান্য অভিযোগ বিবেচনায় এনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরমাণু প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকেও সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও তাকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে আরও চারজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি এবং নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হবে।



