প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকার আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক এই ব্যবস্থা চালুর পর এবার এর পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজধানীর আরও ৫০টি স্থানে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দিয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ও আধুনিক ক্যামেরার সহায়তায় যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এর ফলে মোড়ে যানবাহনের চাপ অনুযায়ী সংকেত ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর সমন্বয় করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সড়ক আইন ভঙ্গের ঘটনাও প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সংকেত অমান্য করা, নির্ধারিত থামার রেখা না মানা, পথচারী পারাপারের স্থানে গাড়ি ওঠানো, ভুলভাবে গাড়ি দাঁড় করানো এবং অবৈধভাবে পার্কিংয়ের মতো বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে ট্রাফিক পুলিশকে প্রতিটি মোড়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে হাতে সংকেত দেখিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করতে হবে না। এতে একদিকে দায়িত্ব পালনের চাপ কমবে, অন্যদিকে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে শুধু আধুনিক সিগন্যাল স্থাপন করলেই রাজধানীর যানজট পুরোপুরি দূর হবে না। সড়ক ব্যবহারকারীদের নিয়ম মেনে চলা, নির্ধারিত লেনে গাড়ি চালানো, পথচারীদের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যবহার এবং মোড় দখল করে অবৈধভাবে দোকান বা যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ করাও জরুরি।
সরকার একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিবেশদূষণকারী যানবাহন সরানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত হর্ন নিয়ন্ত্রণেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো গেলে যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্তকরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এই উদ্যোগের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত তদারকি এবং সাধারণ মানুষের ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর।



