রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ফাইল ছবি

আজ বুধবার, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পবিত্র দিন ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। প্রচলিত মত অনুযায়ী, ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমনের দিন। একই তারিখে তাঁর ওফাত হয়েছে বলেও প্রসিদ্ধ মত রয়েছে।

মহানবী (সা.)-এর আগমন মানবজাতির ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। তিনি মানুষকে অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও অন্যায়ের অন্ধকার থেকে সত্য, ন্যায়, জ্ঞান ও মানবিকতার পথে আহ্বান জানান। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শের মাধ্যমে আরবের সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং প্রতিষ্ঠিত হয় সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও মানুষের মর্যাদার মূল্যবোধ।

প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক মত অনুযায়ী, মহানবী (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা নগরীতে কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের আগেই তিনি পিতাকে হারান। শৈশবেই মা ও পরে দাদাকে হারিয়ে তিনি চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে বড় হন। ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি নবুয়ত লাভ করেন। এরপর প্রায় ২৩ বছর ধরে তিনি মহান আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেন এবং সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মানবতার পথে মানুষকে আহ্বান জানান।

মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল মানুষের প্রতি ভালোবাসা, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও ন্যায়পরায়ণতার অনন্য দৃষ্টান্ত। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারী, শিশু, প্রতিবেশী ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনের শিক্ষা তিনি দিয়েছেন। তাঁর জীবন ও সুন্নাহ আজও মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশে আজ সরকারি ছুটি পালিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র, আদর্শ ও মানবতার জন্য তাঁর অবদান তুলে ধরা হচ্ছে।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

পবিত্র এই দিনে মুসলমানরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকার করছেন। তাঁর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তি, ন্যায়, সম্প্রীতি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!