প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১০:০২ এএম
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। তাঁর পৃথিবীতে আগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক মহিমান্বিত ঘটনা। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কোরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের ক্ষেত্রে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার শিক্ষা তাঁর জীবন থেকে পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা কিংবা সামাজিক অবস্থানের পার্থক্যকে অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.) গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি। তাঁর আদর্শ মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ জোরদার করে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্ব যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয়সহ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হতে পারে। তাঁর শিক্ষা তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানুষের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রার্থনা করেন।



