মাহদী হাসান রুবেল
প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
সংগৃহীত
দেশে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি তথ্যভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে এ ধরনের কুকুরের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে এদের উপস্থিতি বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলের পাড়া-মহল্লা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাতেও দলবদ্ধ কুকুরের বিচরণ দেখা যায়।
বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ওপর হামলা ও কামড়ের ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করছে। স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশে প্রায় ৩ থেকে ৬ লাখ মানুষ কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়ে চিকিৎসা ও জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা নিতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে যান। আক্রান্তদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু ও কিশোর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুরের কামড় বা আঁচড়কে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আক্রান্ত স্থানে দ্রুত পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক গ্রহণ না করলে জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন নগর এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলে রাখাও বেওয়ারিশ কুকুরের বিচরণ বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খাবারের উচ্ছিষ্ট সহজে পাওয়ায় নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে কুকুরের দল গড়ে উঠছে। ফলে পথচারী, শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচলে বাড়ছে আতঙ্ক।
কুকুর নিয়ন্ত্রণে নির্বিচারে নিধনের পরিবর্তে টিকাদান, বন্ধ্যাকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নিয়মিত নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও পর্যাপ্ত প্রতিষেধক সরবরাহ প্রয়োজন।
প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের শিকার হওয়ার তথ্যটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সতর্কবার্তা। তাই বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ জরুরি।
মাতৃভূমির খবর