রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পদ্মা-যমুনা ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক করিডরের পরিকল্পনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

পদ্মা-যমুনা ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক করিডরের পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা ও যমুনা নদীকে কেন্দ্র করে দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে দুটি নতুন সেতু নির্মাণকে। এর একটি হবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এবং অন্যটি দ্বিতীয় যমুনা সেতু।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ওয়াই আকৃতির নকশায় সেতু দুটি নির্মাণ করা সম্ভব হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প, পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, গুদাম, পরিবহনকেন্দ্র ও পর্যটন অবকাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে সেতু ঘিরে থাকা অঞ্চলগুলো ভবিষ্যতে বড় ধরনের উৎপাদন ও শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছে সরকার।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া সেতুর নির্মাণযোগ্যতা, সম্ভাব্য ব্যয়, কারিগরি বিষয় এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব খতিয়ে দেখতে এই সমীক্ষা করা হবে।

একইভাবে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা, জাপান সরকার এবং চায়না হারবার কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ দিকে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হতে পারে।

সম্ভাব্য দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ এবং গাইবান্ধার বালাসী থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ—এই দুটি পথ প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে কোন পথে সেতু নির্মাণ করা হবে, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে সম্ভাব্যতা যাচাই ও কারিগরি সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে।

অর্থনীতিবিদ ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের মতে, নতুন সেতুগুলোকে শুধু নদী পারাপারের অবকাঠামো হিসেবে দেখলে হবে না। কৃষি উৎপাদন, শিল্পায়ন, পণ্য পরিবহন ও পর্যটনকে সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক করিডর হিসেবে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতুর আশপাশে উৎপাদন ও পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ঢাকাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর চাপ কমিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!