রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হজের খরচ বেঁচে যাওয়ার ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত পাচ্ছেন ৪৩৪১ হাজী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

হজের খরচ বেঁচে যাওয়ার ৪ কোটি  ৮৭ লাখ টাকা ফেরত পাচ্ছেন ৪৩৪১ হাজী

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় পবি,ত্র হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজীর জন্য এসেছে সুখবর। হজ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় কিছু অর্থ সাশ্রয় হওয়ায় তাঁদের মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাড়িভাড়া বাবদ ব্যয় কম হওয়া এবং বিভিন্ন সেবার মূল্য নির্ধারিত হিসাবের চেয়ে কম পড়ায় এই অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হজের জন্য নির্ধারিত অর্থের মধ্যে যেসব খাতে ব্যয় কম হয়েছে, সেসব খাতে অব্যয়িত অর্থ হাজীদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট হাজীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি এই অর্থ পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক হাজী সমপরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন না। তাঁরা কোন হজ প্যাকেজে ছিলেন, কোন ধরনের আবাসন সুবিধা নিয়েছেন এবং আসন উন্নীতকরণের সুবিধা গ্রহণ করেছেন কি না—এসব বিষয়ের ওপর ফেরতযোগ্য অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে। ফলে একই প্যাকেজের আওতায় থাকা হাজীদের মধ্যেও ফেরত পাওয়ার অর্থে পার্থক্য থাকতে পারে।

হজ প্যাকেজ-১-এর আওতায় হোটেল বুলুরা আল দুররায় সাধারণ ব্যবস্থাপনায় থাকা হাজীরা ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা করে ফেরত পাবেন। একই আবাসনে স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হজ পালনকারীরা পাবেন ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা।

দুই আসনের উন্নীতকরণ সুবিধা নেওয়া হাজীদের ফেরত দেওয়া হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা করে। আর দুই আসনের উন্নীতকরণের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় থাকা হাজীরা ফেরত পাবেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা।

তিন আসনের উন্নীতকরণ সুবিধা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ফেরতযোগ্য অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা। একই সুবিধার সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীরা পাবেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা।

প্যাকেজ-২-এর আওতায় থাকা হাজীদের ক্ষেত্রেও ফেরতযোগ্য অর্থের পরিমাণ আবাসন ও প্যাকেজভেদে আলাদা। দুই নম্বর বাড়ি বা হোটেল লুলুয়াত আল ভাওহীদে সাধারণ ব্যবস্থাপনায় থাকা হাজীরা ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা করে ফেরত পাবেন। স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপনার হাজীদের দেওয়া হবে ৮ হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা।

এই আবাসনে দুই আসনের উন্নীতকরণ সুবিধা নেওয়া হাজীরা ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা করে ফেরত পাবেন। একই সঙ্গে উন্নীতকরণ ও স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপনার সুবিধা নেওয়া হাজীদের প্রত্যেকে পাবেন ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ১৪ পয়সা।

তিন আসনের উন্নীতকরণ সুবিধা নেওয়া হাজীদের ফেরত দেওয়া হবে ৩ হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা। আর উন্নীতকরণের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় থাকা হাজীরা পাবেন ৮ হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা করে।

তিন নম্বর বাড়ি বা হোটেল রাওদাত আল শুরূকের হাজীদের ক্ষেত্রেও প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী ফেরতের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ ব্যবস্থাপনায় থাকা প্রত্যেক হাজী পাবেন ৩ হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা। স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ফেরতযোগ্য অর্থ ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা।

এই আবাসনে দুই আসনের উন্নীতকরণ সুবিধা নেওয়া হাজীরা ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা করে পাবেন। তিন আসনের উন্নীতকরণ সুবিধা নেওয়া হাজীদের ক্ষেত্রে ফেরত দেওয়া হবে ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা।

চার নম্বর বাড়ি বা হোটেল মানার আল শুরূকের সাধারণ ব্যবস্থাপনায় থাকা হাজীদের প্রত্যেককে ৭ হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা ফেরত দেওয়া হবে। দুই আসনের উন্নীতকরণ সুবিধা নেওয়া হাজীদের ফেরত দেওয়া হবে ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা। তিন আসনের উন্নীতকরণ সুবিধা নেওয়া হাজীরা পাবেন ৬ হাজার ২৪১ টাকা ২৪ পয়সা করে।

এ ছাড়া সাধারণ হজ প্যাকেজ-৩-এর আওতায় হোটেল নান্দার ওয়ানে অবস্থান করা প্রত্যেক হাজী ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা করে ফেরত পাবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজীদের প্রাপ্য অর্থ তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এতে হজ শেষে নির্ধারিত ব্যয়ের পর অব্যয়িত অর্থ নিয়ে হাজীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা ছিল, তারও অবসান হবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যয়ের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব সাশ্রয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাড়িভাড়া ও সেবামূল্যের ক্ষেত্রে ব্যয় কম হওয়ায় যে অর্থ অব্যয়িত রয়েছে, তা সরকারি কোষাগারে রেখে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট হাজীদের ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য এ সিদ্ধান্তকে আর্থিক স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হজ পালনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর একটি অংশ ফেরত পাওয়ায় অনেক হাজী উপকৃত হবেন। তবে প্রত্যেকের ফেরতের অর্থ আলাদা হওয়ায় নিজের প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থই সংশ্লিষ্ট হাজী পাবেন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যয়ের হিসাব, আবাসন, সেবা এবং অন্যান্য খাতে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি প্রতিবছরই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এবার নির্ধারিত অর্থের একটি অংশ সাশ্রয় হওয়ায় সেই উদ্বৃত্ত অর্থ সরাসরি হাজীদের কাছে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!