প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল পথে বিভিন্ন অবকাঠামোগত ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি পিলারে বিভিন্ন মাত্রার ফাটল এবং ২৭টি বিয়ারিং প্যাডকে গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব ত্রুটি দ্রুত নিরূপণ, পর্যবেক্ষণ ও মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মেট্রোরেল পথের বিভিন্ন ত্রুটি এবং সেগুলো মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, মেট্রোরেল পথের বিভিন্ন স্থানে মোট ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। তবে এসব ত্রুটির সবগুলোকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। এর মধ্যে ৪৯৭টি বিয়ারিং প্যাডের ত্রুটিকে অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ২৭টি বিয়ারিং প্যাডকে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
একইসঙ্গে মেট্রোরেলের বিভিন্ন পিলারে ফাটলের অস্তিত্বও পাওয়া গেছে। ৪৬টি পিলারে বিভিন্ন মাত্রার ফাটল চিহ্নিত হওয়ায় সেগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফাটলগুলোর প্রকৃতি, গভীরতা এবং ভবিষ্যতে এগুলো কতটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা নিরূপণের জন্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ গত ১৬ জুলাই ‘সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজও শুরু হয়েছে। ১০টি স্থানে ইস্পাতের বন্ধনী স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি স্থানে বিয়ারিং প্যাডের বসে যাওয়ার মাত্রা পরিমাপের জন্য পরিমাপক চিহ্ন স্থাপন করা হয়েছে।
চিহ্নিত ২৭টি গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাড আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪৬টি পিলারের ফাটল নিয়ে বিস্তারিত কাঠামোগত পরীক্ষা করা হবে। এসব ফাটলের ঝুঁকি নিরূপণ এবং মেরামতের উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে কাঠামোগত পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পিলারের ফাটল নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ১০২টি স্থানে ফাটল পরিমাপক যন্ত্র বসানোর কাজ চলছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এসব যন্ত্র স্থাপনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফাটলের পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থার একটি অংশ হওয়ায় এর কাঠামোগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শনাক্ত হওয়া ত্রুটিগুলো পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মেরামত ও প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।



