রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জুলাইকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করতে হবে, কোন কমপ্রোমাইজ হবে না

জিয়ন রহমান

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০৪:৫৮ পিএম

জুলাইকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করতে হবে, কোন কমপ্রোমাইজ হবে না

বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ আন্দোলন, অস্থিরতা ও ত্যাগের পর যে পরিবর্তনের সূচনা ঘটেছে, সেটিকে স্থায়ী রূপ দিতে এখন প্রয়োজন এক সুসংহত দিকনির্দেশনা। সেই দিকনির্দেশনাই হলো জুলাই সনদ, যা কেবল একটি রাজনৈতিক দলিল নয়, বরং জনগণের রক্তে লেখা নতুন রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিফলন।

প্রথমত, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন কোনো বিকল্প নয়, বরং এটি জাতির ভবিষ্যতের নিরাপত্তা। এই সনদ কার্যকর না হলে বাংলাদেশ আবার ফিরে যাবে সেই পুরোনো অচলায়তনে, যেখানে ক্ষমতা ছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিক, আর জনগণ ছিল প্রান্তিক। যদি এই সনদ ব্যর্থ হয়, তাহলে হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক আমলকে আবার “বৈধতা” দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ইতিহাসকে পিছনে নিয়ে যাওয়ার সেই বিপজ্জনক সম্ভাবনাই আজ আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় শঙ্কা।

দ্বিতীয়ত, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন কোনো রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করা যাবে না। কারণ এটি কেবল রাজনীতি নয়, এটি জনগণের যৌথ স্বপ্ন ও ন্যায্যতার দাবি। আর জনগণের সেই সম্মিলিত ইচ্ছার একমাত্র বৈধ প্রতিফলন ঘটাতে পারে গণভোট। গণভোটের মাধ্যমেই জনগণ জানাবে, তারা কী চায়, একটি অংশীদারিত্বমূলক, জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র, নাকি আবার পুরোনো প্রভুত্ববাদী শাসনব্যবস্থা?

তৃতীয়ত, গণভোট ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে হবে না কি একই সঙ্গে—এই বিতর্ক আসলে গৌণ। মূল বিষয় হলো, গণভোটের ফল যেন বাধ্যতামূলক ও আইনি ক্ষমতাসম্পন্ন হয়। জনগণের রায়ই হবে সর্বোচ্চ আইন। যে সংসদ আসবে, তাকে এই রায় বাস্তবায়নে বাধ্য থাকতে হবে। এভাবেই নতুন প্রজাতন্ত্রের ভিত হবে জনগণের হাতে, দলীয় রাজনীতির হাতে নয়।

চতুর্থত, সনদের সব বিষয় এক প্যাকেজে না রেখে, যেগুলোতে সর্বসম্মতি আছে তা এক প্যাকেজে, আর যেগুলোতে দ্বিমত আছে তা আরেক প্যাকেজে নেয়া উচিত। এতে করে ভোটাররা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। গণভোটে দুটি প্রশ্ন থাকুক—একটিতে সর্বসম্মত সংস্কার, অন্যটিতে বিতর্কিত প্রস্তাব। জনগণের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-ই হবে নতুন বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা।

বাংলাদেশ আজ আরেকটি মুক্তির মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—যখনই আমরা আপস করেছি, তখনই অগ্রগতি থেমে গেছে। তাই আজ দরকার দৃঢ়তা, না যে আপস। জুলাই সনদ বাস্তবায়নই হতে পারে সেই পথ, যা বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেবে জনগণের কাছে, রাজনীতিকে ফিরিয়ে দেবে নীতির কাছে, আর রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দেবে মর্যাদার স্থানে।

কমপ্রোমাইজ নয়, জুলাইই হোক নতুন বাংলাদেশের সংবিধানিক ভিত্তি।
 

লেখিকা: গবেষক ও সমকালীন সমাজবিশ্লেষক

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!