জে আই জাহিদ
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
ছবিঃ প্রতিনিধি
গণতন্ত্রে রাজনীতি একটি মহৎ সেবা। এর মূল উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু যখন কিছু অসাধু রাজনীতিবিদদের দৌরাত্ম্যে শুধু রাষ্ট্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না—সমাজের মূল্যবোধও ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই বাস্তবতা দেখে আগামী তরুণ প্রজন্ম কী শিক্ষা নেবে?
রাজনীতি থেকে তরুণ প্রজন্মের কেমন শিক্ষা হওয়া উচিৎ?
সম্মান
মানুষের আস্থা স্থায়ী হতে পারে কিন্তু ক্ষমতা কখনোই স্থায়ী হয়না। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ক্ষমতার জোরে মানুষকে ভয় দেখানো সম্ভব হলেও সম্মান আদায় করা মোটেও সম্ভব হয়না। সম্মান অর্জিত হয় সততা, দায়িত্বশীলতা এবং জনকল্যাণে কাজ করার মাধ্যমে।
দাম্ভিকতা
দুর্নীতি সাময়িক সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র—সবকিছুর জন্যই তা ধ্বংস ডেকে আনে। অবৈধ সম্পদ কিংবা অনৈতিক প্রভাব হয়তো কিছু সময়ের জন্য সফলতার মুখোশ তৈরি করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জবাবদিহি, আইনের শাসন কিংবা ইতিহাসের বিচারে তা টিকে থাকে না।
মতভিন্নতা
মতভিন্নতা শত্রুতা নয়। অসহিষ্ণুতা, বিদ্বেষ কিংবা বিভাজনের রাজনীতি সমাজকে দুর্বল করে। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে ওঠে ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি, যুক্তি, সংলাপ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর।
স্বার্থ
রাজনীতি যদি ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম হয়ে যায়, তবে জনগণের আস্থা নষ্ট হয়। আর জনগণের আস্থা হারানো একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। তাই যারা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দিতে চায়, তাদের উচিত রাজনীতিকে পেশা নয়, বরং জনসেবার দায়িত্ব হিসেবে দেখা।
অন্ধ অনুসরণ
অন্ধ অনুসরণ নয়, সচেতন মূল্যায়ন। কোনো ব্যক্তি, দল বা মতাদর্শকে প্রশ্নহীনভাবে অনুসরণ করার পরিবর্তে তথ্য, যুক্তি এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন সচেতন নাগরিকের পরিচয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব, অপপ্রচার কিংবা আবেগনির্ভর প্রচারণার বদলে সত্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা আজ সময়ের দাবি।
একই সঙ্গে তরুণদের মনে রাখতে হবে, সব রাজনীতিবিদকে এক কাতারে ফেলা ন্যায়সংগত নয়। বিভিন্ন সময়ে বহু সৎ, ত্যাগী ও জনকল্যাণে নিবেদিত রাজনৈতিক নেতাও সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাই কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ড দিয়ে পুরো রাজনীতিকে বিচার করা যেমন ভুল, তেমনি ভালো উদাহরণগুলো থেকেও শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে আজকের তরুণেরা। তারা যদি সততা, জবাবদিহি, মানবিকতা, সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমকে নিজেদের নেতৃত্বের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে, তবে ভবিষ্যতের রাজনীতি আরও পরিচ্ছন্ন ও জনমুখী হতে পারে। অসাধু রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা তাই তাদের ভুলকে অনুসরণ করা নয়; বরং সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভিন্ন, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলা।
একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে তার তরুণ প্রজন্ম। তারা যদি অনিয়মকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়, তবে সংকট আরও গভীর হবে। আর যদি অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করে সততা, নৈতিকতা ও জনকল্যাণের রাজনীতি বেছে নেয়, তবে সেটিই হবে অসাধু রাজনীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী জবাব।
মাতৃভূমির খবর