প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে হলে কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান সংসদের ভেতরেই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের কথা বললেও অতীতে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত, যার ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার রাজধানীতে ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধাপে ধাপে দুর্বল করে দিয়েছে। তার মতে, বর্তমানে দেশের নানা সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার অন্যতম কারণ হলো শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠা।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে কেবল নির্বাচন নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত বিরোধ ও মতভেদ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সমাধান করা এবং সংসদকে আলোচনার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের ওপর সরাসরি কোনো চাপ নেই। অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকরা নিজেদের বিবেচনায় সংবাদ প্রকাশ বা উপস্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যে সরকারকে সময়ের আগেই ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষ্য, গণতন্ত্রে মতবিরোধ থাকতেই পারে, তবে তা সংসদে আলোচনা ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে সমাধান হওয়াই উচিত।
তিনি জুলাই সনদ, গণভোটসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সংসদে উত্থাপন করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি গণতান্ত্রিক আচরণের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



