মনিকা সোহাগ
প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০৫:২২ পিএম
ছবি: মাতৃভূমির খবর ডিজিটাল
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সম্প্রতি সংগীত শেখানোর জন্য ২,৫৮৩ জন স্বতন্ত্র সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এটি “শিক্ষার্থীদের নান্দনিক বিকাশের” অংশ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যে দেশে ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলিম, সেই দেশের কোমলমতি শিশুদের নাচ-গান শেখানোই কি এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ?
আমরা জানি, দেশের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো স্বতন্ত্র ধর্মীয় শিক্ষক নেই। ইসলাম শিক্ষা বা অন্য ধর্মীয় বই পাঠদানের দায়িত্ব পালন করছেন অন্য বিষয়ের শিক্ষকরা—যাদের অনেকে ইসলামি জ্ঞান, কুরআন তিলাওয়াত, এমনকি সঠিক উচ্চারণেও পারদর্শী নন। কোনো কোনো জায়গায় তো ইসলাম শিক্ষা পড়াচ্ছেন অমুসলিম শিক্ষক—যা একদিকে অযৌক্তিক, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ভুল ধারণায় ভরিয়ে দিচ্ছে।
ধর্মীয় পাঠ্যবই থাকা সত্ত্বেও যোগ্য শিক্ষক না থাকায় দ্বীনি শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এটি কেবল শিক্ষার সমস্যা নয়; এটি আমাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও জাতিসত্তার সংকট। সরকার যদি সত্যিই প্রাথমিক স্তরে শিশুদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে চায়, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত স্বতন্ত্র ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্বে আছে। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের মতো মৌলিক কাজ না করে, বরং সংগীত শিক্ষক নিয়োগে এমন তাড়াহুড়ো কেন? যেই সরকার মৌলিক শিক্ষার ঘাটতি পূরণ করতে পারেনি, সেই সরকার নাচ-গানের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত—এটা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
মুসলিম অভিভাবকের দায়িত্ব সন্তানকে দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান শেখানো, কুরআন তিলাওয়াত, আকীদা, মাসআলা ও ইসলামী আদর্শ। কিন্তু বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশ না থাকায়, অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ খোঁজেন, মক্তব, মসজিদ বা ঘরোয়া শিক্ষা। সবাই পারে না, ফলে এক নতুন প্রজন্ম ধর্মীয় শিক্ষার আলো থেকে দূরে থেকে বেড়ে উঠছে।
আজ আমরা সামাজিকভাবে দুর্নীতি, অসততা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কথা বলি। কিন্তু এই সমস্যার মূল কারণ যে শিশুকালে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার অভাব, তা বুঝতে চাই না। প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো সেই ভিত্তি—যেখানে শিশুরা শিখবে সততা, শৃঙ্খলা ও আল্লাহভীতি। সংগীত নয়, এই ভিত্তিতে প্রয়োজন দ্বীনি শিক্ষা।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে গান-বাজনা বিলাসিতা, বিনোদন নয়। ইতিহাস সাক্ষী—যখনই মুসলিম সমাজে সংগীত ও ভোগবিলাস বেড়েছে, তখনই পতনের ছায়া ঘনিয়েছে। আন্দালুস, বাগদাদ, দিল্লি—সব জায়গার ইতিহাস তাই বলে।
সুতরাং রাষ্ট্রীয় অর্থে সংগীত শেখানোর বদলে, এখনই দরকার ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করা। ইসলাম ও নৈতিকতার ভিত্তিতে গড়ে উঠুক নতুন প্রজন্ম—যারা আল্লাহভীরু, নৈতিক, এবং দায়িত্ববান নাগরিক।
লেখিকা: গবেষক ও সমাজবিশ্লেষক
মাতৃভূমির খবর