প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ একাধিক নেতাকর্মীর ওপর হামলা, মারধর এবং মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখের পাশাপাশি শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের একটি মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে তাদের ঘিরে ফেলে হামলা চালায়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের লাঠি ও ধাতব বস্তু ব্যবহার করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হামলার সময় মূল্যবান কিছু সরঞ্জাম ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি পেশাদার আলোকচিত্র ধারণের যন্ত্র, বিভিন্ন ব্যক্তিগত যোগাযোগ যন্ত্র এবং নগদ অর্থ।
মামলার বাদী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কেন্দ্রীয় এক নেতা অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের সমর্থকরা এই মামলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন। মামলা দায়েরের পর ঝিনাইদহ সদর থানার সামনে দলীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে নির্দোষ ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনার পর জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। ফলে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



