প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
রাজধানীতে আয়োজিত এক শিক্ষা ও উদ্ভাবনমূলক অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দেশের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। তবুও শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও অধ্যবসায় থেমে নেই।
রোববার বিকেলে রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত উদ্ভাবন ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের তৈরি নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প ও গবেষণামূলক উপস্থাপনাও ঘুরে দেখেন তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের নানা অঞ্চলে এমন বহু বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও জ্ঞানের আলো ধরে রাখার চেষ্টা করছে। অনেক স্থানে বিদ্যালয়ের ছাদ ভেঙে পড়ছে, দেয়াল ক্ষয়ে যাচ্ছে, শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু এসব প্রতিকূলতা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
নিজের বক্তব্যে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েকটি বিদ্যালয়ের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজেদের স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও নানা কষ্ট ও সংকটের মধ্যেও দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাদের এই নিষ্ঠা ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের গ্রামীণ ও অবহেলিত এলাকার বিদ্যালয়গুলোর দেয়ালে প্রায়ই জীবনের মূল্যবান বাণী দেখা যায়, যা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে। এমনই একটি বিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা ছিল— “মানুষ কখনও হার মানে না, সে হয় জয়ী হয়, নয়তো শিক্ষা নেয়।” এই ধরনের অনুপ্রেরণামূলক বার্তা শিশুদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বলে মত দেন তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমানের এসব সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে দেশের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক তৈরি হবে। তিনি মনে করেন, ধনী-গরিব ভেদাভেদ ছাড়াই সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে শিক্ষাব্যবস্থা আরও সহজলভ্য করা গেলে দেশের সুপ্ত মেধা বিকাশের পথ সুগম হবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। তারা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



