প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
দেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমশ কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তাঁর মতে, মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময়, বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বছরের পর বছর ধরে মামলার ঝুলে থাকার কারণে জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াতে চান না। কারণ একটি মামলা শুরু হওয়ার পর তা নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই একজন মানুষ জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত বিচার পান না। ফলে জনগণের মধ্যে আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত অনেক মামলাও বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে। এতে বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে এবং বিচারপ্রাপ্তির অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আলোচনা সভায় তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে মামলার জট কমানো, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জনগণের বিশ্বাস পুনর্গঠন জরুরি।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বক্তারা নির্যাতন, বিচারহীনতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা অপরিহার্য।
বক্তারা আরও দাবি করেন, কোনো ধরনের নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বিচারপ্রক্রিয়ার সংস্কার, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, বিচারব্যবস্থা যত বেশি স্বচ্ছ, দ্রুত ও জনগণমুখী হবে, ততই রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক শক্তিশালী হবে এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।



