রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বাজেটে দিকনির্দেশনা নেই: বিরোধীদলীয় নেতা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বাজেটে দিকনির্দেশনা নেই: বিরোধীদলীয় নেতা

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, দেশের বাইরে পাচার হওয়া অর্থ ফেরিয়ে আনার বিষয়ে বাজেটে কার্যকর কোনো দিকনির্দেশনা নেই। একই সঙ্গে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গেলে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সৎ করদাতারা বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়ীদের কর প্রদানে আরও উৎসাহ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সমাজের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের চাহিদা সমানভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তার মতে, একটি গ্রহণযোগ্য বাজেট তখনই সম্ভব, যখন দেশের প্রতিটি খাত ও জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। অথচ সেই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সুস্পষ্ট কৌশল বা কর্মপরিকল্পনার উল্লেখ বাজেটে নেই। তার দাবি, পাচার হওয়া অর্থের সামান্য অংশও উদ্ধার করা সম্ভব হলে বাজেট ঘাটতির বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব।

শিক্ষা খাত নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইবতেদায়ি শিক্ষাকে সাধারণ প্রাথমিক শিক্ষার সমমর্যাদা দেওয়া হলেও এ খাতের জন্য পৃথক বরাদ্দ বা বিশেষ উদ্যোগ দেখা যায়নি। পাশাপাশি গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের হাসপাতালের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

এছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি এ ধরনের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। দুর্নীতিকে দেশের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কার্যকর দুর্নীতি দমন ছাড়া উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বিরোধী দলের গঠনমূলক মতামত ও সংশোধনী প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় রোধে অর্থবছরের সময়সূচি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবও দেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!