প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
দেশে আবারও একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ কোনোভাবেই একদলের শাসনের পরিবর্তে আরেকদলের দখলদারিত্ব, দুর্নীতি কিংবা লুটপাটের রাজনীতি দেখতে চায় না। জনগণের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌর এলাকার তালতলা চত্বরে আয়োজিত পদযাত্রা ও পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলটির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পদযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা এবং জনগণের অধিকার নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, অতীতের মতো জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হলে তা দেশের জন্য শুভ হবে না। রাজনৈতিক ভিন্নমতকে দমন কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি, হামলা কিংবা সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশের তরুণ সমাজ যে আত্মত্যাগ করেছে, তার মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। কিন্তু যদি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক, অনিয়ম ও লুটপাট আগের মতোই চলতে থাকে, তাহলে সেই আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে না। তিনি দাবি করেন, জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যেখানে আইনের শাসন এবং সমঅধিকার নিশ্চিত থাকবে।
বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে নিরীহ মানুষকে হয়রানি বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দিয়ে হয়রানির সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে মামলা নিয়ে অনিয়ম ও বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
এ সময় তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
পদযাত্রায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সমর্থক অংশ নেন। সভা শেষে নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন এবং জনগণের বিভিন্ন দাবি আদায়ে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।



