প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য জাতির ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।
বিবৃতিতে রিপন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ফল। তিনি উল্লেখ করেন, ষাটের দশকে উত্থাপিত ছয় দফা দাবি ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রূপরেখা, যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তি তৈরি করেছিল। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে নিজেদের শাসনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছিল।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনে জনগণের সুস্পষ্ট রায় পাওয়ার পরও যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি, তখন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ জনগণকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রস্তুত করেছিল এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানি বাহিনীর দমন-পীড়ন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে স্বাধীন বাংলাদেশের পথ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মাহমুদ হাসান রিপনের মতে, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সেই ঘোষণার প্রচারের বিষয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে একাকার করে দেখানোর চেষ্টা করা হলে প্রকৃত ইতিহাস আড়াল হয়ে যায়। তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘটনাপ্রবাহ, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সাংবিধানিক দলিলসমূহের আলোকে ইতিহাস মূল্যায়ন করা উচিত।
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার বিষয় নয়। এটি লাখো মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এক গৌরবময় অধ্যায়। তাই জাতির ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রিপন বলেন, স্বাধীনতার চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস সংরক্ষণ করা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ইতিহাসভিত্তিক গবেষণা, দলিল এবং স্বীকৃত তথ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।



