প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও গণআকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের উপকরণে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল দীর্ঘ সময় ধরে চলা স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং এর মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
রাজধানীতে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দলের ঘোষিত একত্রিশ দফা কর্মপরিকল্পনার মতোই জুলাই সনদের বিষয়গুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। বিশেষ করে জনগণের আন্দোলন ও আত্মত্যাগকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিভাজন বা স্বার্থান্বেষী রাজনীতি দেশের জন্য ইতিবাচক হবে না। তিনি দাবি করেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।
সংবিধান প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দলটি নতুন করে সংবিধান প্রণয়নের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পক্ষে। দেশের বাস্তবতা, জনগণের প্রত্যাশা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আলোকে সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কথা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি বলে আসছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে তাদের আপত্তি রয়েছে। এ বিষয়ে দলের অবস্থান অতীতের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল শিক্ষা হলো গণতন্ত্র, জবাবদিহি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। তাই এই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের পথে কাজে লাগানো উচিত।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



