প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা আগের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সেই প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এখনো বিভিন্ন আলোচনায় এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণে কেউ কেউ শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনার কথা বলছেন। তবে তার দাবি, বর্তমান বাস্তবতায় সেই সম্ভাবনা আর নেই। তিনি মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে অতীতের রাজনৈতিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে না।
বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, দেশের জনগণ অতীতের বিভিন্ন ঘটনার মূল্যায়ন করছে এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। তবে তার বক্তব্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে, যা ছিল তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মন্তব্য।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং দলীয় কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা দলীয় কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা পর্যায়ের নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জুলাই জাগরণ কর্মসূচির লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও বক্তব্য দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দলের নেতাদের বক্তব্য জনমনে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য ও মতামতকে সাংবিধানিক কাঠামো, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্যেই মূল্যায়ন করা উচিত। কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য নতুন করে জনমত ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।



