রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘হাতকড়া আমাদের কাছে নববধূর চুড়ির মতো’— ট্রাইব্যুনালে কাদের সিদ্দিকী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

‘হাতকড়া আমাদের কাছে নববধূর চুড়ির মতো’— ট্রাইব্যুনালে কাদের সিদ্দিকী

সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার ছোট ভাই কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, জীবনের বিভিন্ন সময়ে সংগ্রামের অংশ হিসেবে বহুবার হাতকড়া পরতে হয়েছে। তাই হাতকড়াকে তিনি অপমানের প্রতীক হিসেবে দেখেন না; বরং এটিকে নববধূর হাতে পরানো চুড়ির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, তার ভাইকে অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস। এ কারণে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি আদালত প্রাঙ্গণে এসেছেন।

কাদের সিদ্দিকীর দাবি, আদালতে প্রত্যেক অভিযুক্তের নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের অধিকার রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীও নিজের অবস্থান তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি সেই সুযোগ যথাযথভাবে পাননি বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সমাজে সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি রাষ্ট্র ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় মর্যাদা বজায় রাখা উচিত।

ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বয়স এখন প্রায় ৮৭ বছর। জীবনের এই পর্যায়ে তাকে যে অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা তিনি সঠিক বলে মনে করেন না। তার বক্তব্য, যদি এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ শাস্তিও হয়, তবে সেটিকেও তারা ভাগ্যের বিধান হিসেবে মেনে নেবেন।

শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার পরিকল্পনার সঙ্গে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, তার ভাইকে পরিকল্পনাকারী হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সে সময় তিনি পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিসরের অংশ ছিলেন না বলেও দাবি করেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ওই সময় বিভিন্ন ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেও আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে মতপার্থক্য ছিল।

উল্লেখ্য, রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!