প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট, নির্ধারিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার। বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। দলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সরোয়ার তুষারের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও ক্ষমতায় আসার পর বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তার দাবি, দেশে জ্বালানি সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিভিন্ন জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্রে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহেও ভোগান্তি বাড়ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার আগে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গত কয়েক মাসে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কর্মসংস্থান পরিস্থিতিও সংকটের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন এনসিপির এই নেতা। চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও সেসব এলাকায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সরোয়ার তুষার। তার অভিযোগ, নাগরিকদের মতপ্রকাশ পর্যবেক্ষণের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। গণমাধ্যম সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সে অনুযায়ী পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানবাধিকার পরিস্থিতি, গুমসংক্রান্ত তদন্ত এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রেও দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
সরোয়ার তুষার আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যেতে পারে। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হলে বিএনপি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রয়োজনে কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচির পথে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



