প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
পবিত্র হজের দ্বিতীয় দিনে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লি সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে ইবাদত, দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনায় মগ্ন সময় কাটিয়েছেন। ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে আরাফাত পর্বত ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশে।
হজের অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে আরাফাতের ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় খুতবা। এ বছর মসজিদে নামিরাহতে খুতবা প্রদান করেন বিশিষ্ট ইসলামি আলেম শায়খ আলী আল-হুদাইফি। তিনি খুতবায় তাকওয়া, মানবতা, সহমর্মিতা, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। মুসল্লিরা গভীর মনোযোগ দিয়ে সেই বাণী শোনেন।
খুতবা শেষে মসজিদে নামিরাহতে জামাতে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন হাজিরা। সুন্নাত পদ্ধতি অনুসরণ করে এক আজান ও দুই ইকামতের মাধ্যমে জোহর এবং আসরের নামাজ একত্রে আদায় করা হয়। উভয় নামাজই সংক্ষিপ্ত আকারে দুই রাকাত করে আদায় করেন মুসল্লিরা।
যারা মসজিদে নামিরাহতে উপস্থিত হতে পারেননি, তারা নিজ নিজ তাবু কিংবা নির্ধারিত স্থানে জামাতের মাধ্যমে নামাজে অংশ নেন। জোহরের সময় শুরু হওয়ার পরপরই এই জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং নামাজ শেষে সবাই আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনায় হাত তোলেন।
সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা দোয়া, জিকির, ইস্তিগফার ও আত্মসমালোচনায় সময় কাটান। অনেকে অশ্রুসিক্ত চোখে নিজেদের জীবনের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আরাফাতের দিনকে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এই দিনের অবস্থান ছাড়া হজ পূর্ণতা পায় না।
ধর্মীয় আবেগ ও আত্মিক প্রশান্তিতে ভরা এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মশুদ্ধি, আত্মসমর্পণ এবং নতুনভাবে জীবন গঠনের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।



