প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০১:১২ পিএম
সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মা-বাবার জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। সন্তানের মাধ্যমে পরিবারে আসে আনন্দ, আর বার্ধক্যে তারা হয়ে ওঠে মা-বাবার ভরসা। ইসলাম শুধু সন্তান লাভের গুরুত্বই তুলে ধরেনি, বরং তাদের প্রতি মা-বাবার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কেও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনে পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই সন্তানকে ইসলামের শিক্ষা, নৈতিকতা ও ইবাদতের পথে পরিচালিত করা মা-বাবার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
ইসলামী শিক্ষায় বিয়ের সময় এমন জীবনসঙ্গী নির্বাচন করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি একজন আদর্শ মা হওয়ার গুণাবলী ধারণ করেন। একইসঙ্গে গর্ভকালীন ও সন্তান জন্মের পর মায়ের সুস্থতা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
জন্মের পর থেকেই সন্তানের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব মা-বাবার ওপর বর্তায়। ইসলাম শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো, আকিকা করা এবং সুন্দর অর্থবহ নাম রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) সন্তানদের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসা প্রদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি ছোটদের প্রতি মমতা ও বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে একজন মুসলমানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইসলাম সন্তানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তাও দিয়েছে। সন্তানদের ভরণপোষণ, শিক্ষা ও চিকিৎসার দায়িত্ব বাবার ওপর অর্পণ করা হয়েছে। এমনকি পারিবারিক বিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেই।
এছাড়া সন্তানদের মধ্যে সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। উপহার, ব্যয় কিংবা ভালোবাসা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোনো সন্তানের প্রতি বৈষম্য করা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত। এই আমানতের যথাযথ হেফাজত ও দায়িত্বশীল লালন-পালনের মাধ্যমে মা-বাবা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করতে পারেন।



