রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসলামে সীমান্ত রক্ষার গুরুত্ব ও আখিরাতের প্রতিদান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

ইসলামে সীমান্ত রক্ষার গুরুত্ব ও আখিরাতের প্রতিদান

ফাইল ছবি

ইসলামের দৃষ্টিতে দেশ, সমাজ ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু একটি দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি মহৎ ইবাদত। যারা মানুষের জীবন, সম্পদ, স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত থাকেন, তাদের জন্য কোরআন-হাদিসে বিশেষ মর্যাদা ও সওয়াবের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী পরিভাষায় সীমান্ত ও জনপদ রক্ষার উদ্দেশ্যে সতর্ক অবস্থানে থাকাকে ‘রিবাত’ বলা হয়। কোরআন ও হাদিসে এই আমলের এমন ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে, যা অনেক নফল ইবাদতের চেয়েও বেশি মর্যাদাপূর্ণ।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে অটল থাকো, সীমান্তে ও প্রহরায় নিয়োজিত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।” (সুরা আলে ইমরান: ২০০)

মুফাসসিরগণ ব্যাখ্যা করেছেন, এই আয়াতে মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহর পথে এক দিন সীমান্ত পাহারা দেওয়া দুনিয়া এবং দুনিয়ার সব কিছুর চেয়েও উত্তম।” (সহিহ বুখারি: ২৮৯২)

আরেক হাদিসে তিনি বলেন, “আল্লাহর পথে এক দিন ও এক রাত সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক মাস রোজা রাখা এবং এক মাস রাতভর ইবাদত করার চেয়েও উত্তম।” (সহিহ মুসলিম: ১৯১৩)

শুধু তাই নয়, সীমান্ত পাহারারত অবস্থায় কারও মৃত্যু হলে তার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। একই হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, “তার আমলের প্রতিদান চলতে থাকবে, তার জন্য রিজিক অব্যাহত থাকবে এবং সে কবরের পরীক্ষার ভয় থেকে নিরাপদ থাকবে।”

আরও একটি হাদিসে এসেছে, “দুটি চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না—একটি হলো আল্লাহর ভয়ে অশ্রুসিক্ত চোখ, অন্যটি আল্লাহর পথে রাত জেগে পাহারা দেওয়া চোখ।” (তিরমিজি: ১৬৩৯)

ইসলামের ইতিহাসে সীমান্ত ও জননিরাপত্তা রক্ষাকারীদের বিশেষ মর্যাদার বহু উদাহরণ রয়েছে। এক সাহাবি সারা রাত গুরুত্বপূর্ণ একটি গিরিপথ পাহারা দেওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন।

বর্তমান সময়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। যদি তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দায়িত্ব পালন করেন, তবে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত এসব ফজিলতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা রাখতে পারেন।

ইসলাম শুধু নামাজ-রোজার মতো আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় নিবেদিত দায়িত্বশীল কাজকেও মহান ইবাদত হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। সীমান্ত পাহারা তার অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!