রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এনার্জি পানীয় বৈধ? জানালেন মুফতি ওমর বিন নাছির

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

এনার্জি পানীয় বৈধ? জানালেন মুফতি ওমর বিন নাছির

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে টাইগার, স্পিড, রেডবুলসহ বিভিন্ন শক্তিবর্ধক পানীয়ের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ক্লান্তি দূর করা, দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকা কিংবা সতেজ অনুভূতির জন্য অনেকেই এসব পানীয় গ্রহণ করেন। তবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশ্ন রয়েছে—এসব পানীয় পান করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি না।

এ বিষয়ে ইসলামী গবেষক মুফতি ওমর বিন নাছির বলেন, ইসলাম খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতি অনুসরণ করে। কোনো খাদ্য বা পানীয়কে যথাযথ প্রমাণ ছাড়া অবৈধ ঘোষণা করা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি শরিয়তে নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ বলাও সমানভাবে অনুচিত। তাই এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে কোরআন, সুন্নাহ ও ইসলামী বিধানের আলোকে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণভাবে যেসব শক্তিবর্ধক পানীয় বাজারে পাওয়া যায়, সেগুলোতে প্রচলিতভাবে এমন উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা বৈধ বলে বিবেচিত। যদি নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত না হয় যে কোনো পানীয়তে নেশাজাতীয় বা শরিয়তবিরোধী উপাদান রয়েছে, তাহলে শুধুমাত্র সন্দেহ বা গুজবের ভিত্তিতে সেটিকে অবৈধ বলা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিধান অনুযায়ী কোনো বস্তুর অবৈধ হওয়ার জন্য স্পষ্ট প্রমাণ থাকা আবশ্যক। তাই কোনো পানীয়ের গায়ে নিষিদ্ধ উপাদানের উল্লেখ না থাকলে এবং নির্ভরযোগ্যভাবে তা প্রমাণিত না হলে সেটিকে বৈধ হিসেবেই গণ্য করা হবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো পানীয়তে যদি নিশ্চিতভাবে শরিয়তবিরোধী উপাদান থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পরিমাণে এসব পানীয় পান করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সংযম অবলম্বন করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাও জরুরি।

তিনি বলেন, একজন মুসলমানের উচিত হালাল-হারামের ব্যাপারে সচেতন থাকা, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং সব বিষয়ে মধ্যপন্থা অনুসরণ করা। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, প্রমাণ ছাড়া কোনো বিষয়কে হারাম বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ক্ষতিকর অভ্যাস থেকেও বিরত থাকা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!