রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আকিকা না দিলে কি সন্তানের ক্ষতি হয়?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

আকিকা না দিলে কি সন্তানের ক্ষতি হয়?

প্রতীকী ছবি

সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মা-বাবার জন্য এক অমূল্য নিয়ামত। ইসলাম সন্তান জন্মের পর মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে আকিকার বিধান দিয়েছে। তবে সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে—আকিকা না করলে সন্তানের জীবনে নানা ধরনের বিপদ-আপদ নেমে আসে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এই ধারণার কোনো ভিত্তি আছে কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে সন্তানকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাদিসে নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সন্তান জন্মের পর আকিকা করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আকিকার পশু জবাই, মাথার চুল অপসারণ এবং সুন্দর নাম রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ছেলে সন্তানের জন্য দুটি এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল আকিকা করা সুন্নত। তবে পশুটি অবশ্যই পুরুষ হতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পশু পুরুষ বা স্ত্রী—উভয় ক্ষেত্রেই আকিকা বৈধ এবং এতে কোনো গুনাহ নেই।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, আকিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল এবং এটি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। তবে আকিকা না করলে সন্তানের ওপর অবধারিতভাবে বিপদ নেমে আসবে বা তার জীবনে অকল্যাণ ঘটবে—এমন বক্তব্য কোরআন কিংবা সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না।

বিশিষ্ট ইসলামি আলোচকদের ভাষ্য, আকিকা সন্তানের জন্য দোয়া, বরকত ও কল্যাণ কামনার একটি উত্তম আমল। সামর্থ্যবান পরিবারের উচিত যথাসাধ্য এই সুন্নত পালন করা। তবে আর্থিক অসামর্থ্য বা অন্য কোনো কারণে আকিকা না হলে সন্তানের ক্ষতি হবে—এমন বিশ্বাস ইসলামের মূল শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আলেমদের মতে, ইসলামে প্রতিটি ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই আকিকা নিয়ে কুসংস্কার বা ভিত্তিহীন ধারণা নয়, বরং কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং সেই অনুযায়ী আমল করাই একজন মুসলমানের জন্য উত্তম পথ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!