প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
মানবজাতিকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে মহান আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবী ও রাসুল প্রেরণ করেছেন। আদি মানব ও প্রথম নবী হজরত আদম (আ.) পৃথিবীতে আগমনের পর মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁর পক্ষ থেকে যে সৎপথের নির্দেশনা আসবে, যারা তা অনুসরণ করবে তাদের জন্য থাকবে না কোনো ভয় কিংবা হতাশা। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় প্রতিটি যুগে আল্লাহ মানুষের কাছে পথপ্রদর্শক পাঠিয়েছেন, যাতে তারা সত্যের পথে চলতে পারে এবং বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি লাভ করে।
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে নবী-রাসুলদের দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, তাঁদের দায়িত্ব ছিল মূলত চারটি—আল্লাহর আয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা, আল্লাহর বিধান শিক্ষা দেওয়া এবং প্রজ্ঞা ও কল্যাণমুখী জ্ঞান দান করা। এই চারটি দায়িত্বই মানবসভ্যতার নৈতিক, আত্মিক ও সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
প্রথম দায়িত্ব ছিল আল্লাহর বাণী যথাযথভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোনো ধরনের পরিবর্তন বা বিকৃতি ছাড়াই সত্যের বার্তা প্রচার করাই ছিল নবীদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। কারণ আল্লাহর বাণীই মানুষের জন্য সঠিক পথের দিশা, ঈমানের ভিত্তি এবং জ্ঞানের অন্যতম উৎস। কোরআনের শিক্ষা অনুসরণ করলে মানুষ ন্যায়, সততা ও কল্যাণের পথে পরিচালিত হয়।
দ্বিতীয় দায়িত্ব ছিল আত্মশুদ্ধি। নবী-রাসুলরা মানুষের অন্তর থেকে অহংকার, হিংসা, লোভ, অন্যায় ও অসৎ প্রবণতা দূর করে উত্তম চরিত্র গঠনের শিক্ষা দিয়েছেন। ইসলামে সুন্দর চরিত্রকে ঈমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আত্মিক পরিশুদ্ধির মাধ্যমে মানুষ আল্লাহভীতি, সততা, ধৈর্য ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হয় এবং ব্যক্তি ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।
তৃতীয় দায়িত্ব ছিল আল্লাহর বিধান শিক্ষা দেওয়া। ইসলামের জীবনব্যবস্থা মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকনির্দেশনা দেয়। নবী-রাসুলরা মানুষের কাছে এই বিধান পৌঁছে দিয়ে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে ন্যায়, সাম্য, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠিত হবে।
চতুর্থ দায়িত্ব ছিল প্রজ্ঞা শিক্ষা দেওয়া। ইসলামী ব্যাখ্যাকারদের মতে, এর মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় বাস্তব জ্ঞানও অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম মানুষকে কেবল পরকালমুখী জীবন নয়, বরং দুনিয়ার জীবনও সুশৃঙ্খল, দায়িত্বশীল ও কল্যাণকরভাবে পরিচালনার শিক্ষা দেয়। তাই জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রজ্ঞার সমন্বয়েই একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, বর্তমান সময়েও ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধে নবী-রাসুলদের এই চারটি মৌলিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর বাণী অনুসরণ, আত্মশুদ্ধি, সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং প্রজ্ঞার চর্চাই মানবজীবনকে সফল ও শান্তিময় করে তুলতে পারে।



