প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
পবিত্র মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক এলাকায় অবস্থিত কোরআন জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে ইসলামি ইতিহাসের একটি মূল্যবান নিদর্শন। উনিশ শতকের এই দুর্লভ কোরআনের পাণ্ডুলিপি দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরছে সে সময়ের কোরআন লিখন, অলংকরণ ও সংরক্ষণশিল্পের অনন্য ঐতিহ্য।
পাণ্ডুলিপিটির সময়কাল ১২৫৯ হিজরি, যা খ্রিষ্টীয় ১৮৪৩ সালের সমসাময়িক। এতে কালো কালিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কোরআনের আয়াত লেখা হয়েছে। অক্ষর ও শব্দের শুদ্ধতা বজায় রাখতে বিভিন্ন উচ্চারণচিহ্ন ও সূক্ষ্ম চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে। পৃষ্ঠাগুলোর চারপাশে রয়েছে সোনালি কারুকাজ এবং আয়াতের বিভাজন নির্দেশ করতে অলংকরণ করা হয়েছে। সূচনাপর্বের পাতাগুলোতে দেখা যায় দৃষ্টিনন্দন ফুলেল নকশা ও সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম।
এই পাণ্ডুলিপি শুধু ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে না, বরং ইসলামি লিখনশিল্পের বিকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। হাতে লেখা কোরআনের প্রতিটি পাতায় তৎকালীন লিপিকারদের দক্ষতা, ধৈর্য এবং শিল্পবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পাণ্ডুলিপির অলংকরণ থেকে সে সময়ের ইসলামি শিল্পরীতির বৈশিষ্ট্যও বোঝা যায়।
মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক এলাকায় অবস্থিত কোরআন জাদুঘরটি কোরআনের লিখিত ইতিহাস, সংরক্ষণ ও বিভিন্ন যুগের পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে দর্শনার্থীদের ধারণা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। এখানে বিভিন্ন সময়ের দুর্লভ কোরআনের পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রদর্শনের পাশাপাশি আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে কোরআনের সংরক্ষণ ও লিখনপ্রক্রিয়ার ইতিহাস তুলে ধরা হয়।
জাদুঘরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ইসলামি ইতিহাসকে দর্শনার্থীদের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা। প্রাচীন লিখনসামগ্রী থেকে শুরু করে কোরআন সংকলন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপও এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা ইসলামি সভ্যতার লিখন ও শিল্প ঐতিহ্য সম্পর্কেও জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
হেরা সাংস্কৃতিক এলাকা হেরা পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত। কাছেই রয়েছে সেই ঐতিহাসিক হেরা গুহা, যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়েছিল। এ কারণে স্থানটি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক—দুই দিক থেকেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
সাম্প্রতিক সময়ে হেরা সাংস্কৃতিক এলাকায় দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীর উপস্থিতিও বাড়ছে। কোরআন জাদুঘর, ওহির ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনের মাধ্যমে স্থানটি মক্কার গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও সংস্কৃতিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
দুর্লভ এই পাণ্ডুলিপির প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের সামনে কোরআন লিখন ও সংরক্ষণের কয়েক শত বছরের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে এটি ইসলামি ক্যালিগ্রাফি ও অলংকরণশিল্পের সমৃদ্ধ ইতিহাস জানারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।



