রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রিয়ালকে হারিয়েই শিরোপা উৎসব বার্সেলোনার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম

রিয়ালকে হারিয়েই শিরোপা উৎসব বার্সেলোনার

ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনা আবারও প্রমাণ করল কেন তারা ইউরোপের অন্যতম সেরা ক্লাব। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে চলতি মৌসুমের লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছে কাতালান জায়ান্টরা। নিজেদের মাঠে সমর্থকদের সামনে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ২-০ গোলের জয় পেয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। এই জয়ের মধ্য দিয়ে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই শিরোপা ঘরে তুলল বার্সেলোনা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে স্বাগতিকরা। বল দখল, দ্রুত আক্রমণ আর নিখুঁত পাসিংয়ে পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে তারা। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদকে শুরু থেকেই এলোমেলো দেখা যায়। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাশাপাশি রক্ষণভাগেও বারবার ভুল করেছে তারা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় বার্সেলোনা।

ম্যাচের শুরুতেই প্রথম গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করেন মার্কাস র‌্যাশফোর্ড। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না সেই শট ঠেকানোর। চলতি মৌসুমে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছেন এই তারকা ফুটবলার। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার গোল বার্সেলোনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দেয়।

প্রথম গোলের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আবারও বিপদে পড়ে রিয়াল। বাম দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে শক্তিশালী শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেররান তরেস। পুরো স্টেডিয়াম তখন আনন্দে ফেটে পড়ে। সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে গ্যালারি।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে তাদের আক্রমণে ছিল না ধার। কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ফরোয়ার্ডরা। কাছ থেকে নেওয়া গন্সালো গার্সিয়ার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে দূরপাল্লার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে র‌্যাশফোর্ড আরও একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু রিয়ালের গোলরক্ষক অসাধারণ দক্ষতায় তা ঠেকিয়ে দেন।

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। রিয়াল বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করলেও বার্সেলোনার সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। মাঝমাঠে দুর্দান্ত খেলেছেন স্বাগতিকদের ফুটবলাররা। দ্রুত বল আদান-প্রদান আর চাপ সৃষ্টি করে পুরো ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রাখে তারা।

এক পর্যায়ে জুড বেলিংহ্যাম বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, ততই হতাশ দেখিয়েছে রিয়ালকে। অন্যদিকে বার্সেলোনা ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করে শিরোপা নিশ্চিত করে।

এই জয়ের মাধ্যমে লিগ ইতিহাসে নিজেদের ২৯তম শিরোপা জিতল বার্সেলোনা। একই সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বার লিগ জয়ের স্বাদ পেল দলটি। ৩৫ ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ এখন ৯১ পয়েন্ট। অন্যদিকে রিয়ালের পয়েন্ট ৭৭। হাতে এখনো তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত করেছে ফ্লিকের শিষ্যরা।

এই ম্যাচটি বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের জন্য ছিল আবেগঘন। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই নিজের বাবাকে হারান তিনি। ব্যক্তিগত শোক বুকে নিয়েও দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন জার্মান এই কোচ। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করেছেন। শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয় যেন তার জন্য হয়ে উঠেছে আবেগ আর গর্বের এক মিশ্র মুহূর্ত।

২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এলোমেলো একটি দলকে নতুন রূপ দেন ফ্লিক। তার অধীনে বার্সেলোনা শুধু আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলছে না, বরং দলগত সমন্বয়েও এসেছে বড় পরিবর্তন। তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে তৈরি দলটি এখন ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তবে শিরোপা নিশ্চিত হলেও বার্সেলোনার লক্ষ্য এখানেই শেষ নয়। মৌসুম শেষে শত পয়েন্ট ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে দলটি। বাকি ম্যাচগুলোতে জয় ধরে রাখতে পারলে সেই লক্ষ্যও পূরণ হতে পারে। সমর্থকরাও এখন চাইছেন, এই দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখে আগামী মৌসুমেও ইউরোপের মঞ্চে বড় সাফল্য এনে দিক তাদের প্রিয় ক্লাব।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!