প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ আগেই দিয়েছে মরক্কো। গত আসরে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়া উত্তর আফ্রিকার দেশটি এবারও বড় স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামছে। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার আগে মরক্কো শিবিরে দেখা যাচ্ছে দারুণ আত্মবিশ্বাস। দলের অন্যতম ভরসা ও রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আশরাফ হাকিমি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য শুধু লড়াই নয়, জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ার প্রত্যয় রয়েছে।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে হাকিমি বলেন, ব্রাজিল নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। তাদের দলে অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার অভাব নেই। তবে মরক্কো নিজেদের শক্তি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন এবং প্রতিপক্ষের নাম দেখে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখছে না। তিনি মনে করেন, আগের বিশ্বকাপে যেভাবে তারা শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে সমানতালে লড়েছে, এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব।
মরক্কোর এই তারকা রক্ষণভাগের খেলোয়াড় আরও বলেন, বিশ্বকাপের আগের সাফল্য পুরো দলের মানসিকতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সেই অর্জন খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস জুগিয়েছে। তার বিশ্বাস, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসা মাঠে খেলোয়াড়দের বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগ নিয়ে বিশেষ সতর্কতার কথাও জানান হাকিমি। প্রতিপক্ষ দলে থাকা দ্রুতগতির ও দক্ষ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সামলাতে রক্ষণভাগকে বাড়তি মনোযোগী হতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে শুধু রক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না মরক্কো। দ্রুত পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার পরিকল্পনার কথাও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হাকিমি বলেন, দর্শকদের সমর্থন সবসময় তাদের শক্তির জায়গা। মাঠে উপস্থিত কিংবা দূর থেকে যারা দলকে উৎসাহ দেন, তাদের ভালোবাসাই খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের শক্তি বাড়িয়ে দেয়। ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ ও দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ। বিশেষ করে হাকিমির অভিজ্ঞতা ও গতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে দলের সাফল্য। অন্যদিকে ব্রাজিলও জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে মরিয়া। সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে উত্তেজনায় ভরপুর এক লড়াই।



