প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে দারুণ জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের মাঠে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে স্পেনের ক্লাবটি। রিয়ালের হয়ে গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ফেদেরিকো ভালভার্দে। ইন্টারের হয়ে ব্যবধান কমান কার্লোস অগুস্তো।
তবে জয় পেলেও ম্যাচের শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না রিয়ালের জন্য। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইন্টার। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই মার্কোস থুরামের নেওয়া হাফ ভলি রুখে দিয়ে রিয়ালকে বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। এরপর হাকান চালহানোলুর ফ্রি-কিক থেকেও গোলের সুযোগ তৈরি হয়। সেটিও দক্ষতার সঙ্গে সামলে নেন রিয়ালের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
মাঠের দখল ও আক্রমণের বিচারে শুরুতে এগিয়ে থাকা ইন্টারকে অবশ্য দ্রুতই নিজেদের ভুলের খেসারত দিতে হয়। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে ইন্টারের রক্ষণভাগের ভুল থেকে বল পেয়ে যান রিয়ালের খেলোয়াড়েরা। ব্রাহিম দিয়াজ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে এমবাপ্পের দিকে বাড়িয়ে দেন। সুযোগটি কাজে লাগাতে একটুও ভুল করেননি ফ্রান্সের এই তারকা। বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন তিনি।
এ গোলের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেন এমবাপ্পে। প্রতিযোগিতায় এটি ছিল তাঁর ৭১তম গোল। এর ফলে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসের পাশে উঠে আসেন তিনি। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় একই সংখ্যক গোলের মালিক এখন দুজন।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় রিয়াল। মাত্র নয় মিনিটের ব্যবধানে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকেরা। ইন্টারের রক্ষণভাগ থেকে আসা একটি ব্যাকপাস নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজ দেরি করেন। সেই সুযোগে দ্রুত ছুটে গিয়ে বল দখলে নেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। এরপর সহজেই বল পাঠিয়ে দেন ফাঁকা জালে। ফলে মাত্র ২৩ মিনিটের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়নি ইন্টার। বরং বিরতির আগে বেশ কয়েকবার রিয়ালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। কার্টিস জোন্সের একটি শট রিয়ালের গোলপোস্টের ওপরের অংশে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে বিরতির ঠিক আগে রিয়ালও তৃতীয় গোলের সুযোগ পেয়েছিল। এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম ও ব্রাহিম দিয়াজের সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে ইন্টার আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণে রিয়ালের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। তবে প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান কোর্তোয়া। কার্টিস জোন্সের শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি। লাউতারো মার্তিনেজসহ ইন্টারের একাধিক খেলোয়াড় গোলের সুযোগ পেলেও রিয়ালের জাল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে রিয়ালও পাল্টা আক্রমণে বেশ কয়েকবার ইন্টারের গোলরক্ষককে পরীক্ষা নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে জোসেপ মার্তিনেজও দুর্দান্ত কিছু সেভ করে দলকে আরও বড় ব্যবধানের হার থেকে রক্ষা করেন। বেলিংহামের হেড এবং এমবাপ্পের শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। ব্রাহিম দিয়াজও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু তাঁর নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে অবশেষে একটি গোল শোধ করে ইন্টার। লাউতারো মার্তিনেজের বাড়ানো চমৎকার বলে কার্লোস অগুস্তো শক্তিশালী শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-১।
শেষ দিকে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইন্টার। রিয়ালের রক্ষণে চাপ বাড়িয়ে একাধিক আক্রমণ চালায় তারা। কিন্তু প্রতিবারই দৃঢ়তা দেখান কোর্তোয়া। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে হেনরিখ মিখিতারিয়ানের গোলমুখী শটও ফিরিয়ে দেন তিনি। ফলে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।
এই জয়ে নতুন মৌসুমের ইউরোপীয় অভিযানে আত্মবিশ্বাসী শুরু পেল রিয়াল। অন্যদিকে ইন্টারের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকল সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার হতাশার। বিশেষ করে শুরুতে আধিপত্য থাকার পরও রক্ষণভাগের ভুলে দুই গোল হজম করাই তাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ ম্যাচে গোল করে আরও একটি ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় রাউলের সঙ্গে যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। তাঁর সামনে রয়েছেন করিম বেনজেমা, রবার্ট লেভানডফস্কি, লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
রিয়ালের জয়ের পেছনে এমবাপ্পে ও ভালভার্দের গোল যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি শেষ মুহূর্তে কোর্তোয়ার দুর্দান্ত গোলরক্ষণও তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ফলে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় দিয়ে ইউরোপের নতুন অভিযানে নিজেদের শক্তির জানান দিল রিয়াল মাদ্রিদ।



